বিদেশে স্কলারশিপ পাওয়ার যোগ্যতা
একটি ভালো ক্যারিয়ার গঠনের জন্য অনেক শিক্ষার্থীর স্বপ্ন বিদেশে উচ্চশিক্ষা নেওয়া। তবে একটি স্কলারশিপ পাওয়ার জন্য ভালো রেজাল্ট বা ফলাফল করলেই হয় না, তার সাথে প্রয়োজন হয় আরো কিছু যোগ্যতা।
একটি ভালো স্কলারশিপ পাওয়ার জন্য আবেদনের ক্ষেত্রে কি কি যোগ্যতা লাগে তা জানা খুবই জরুরী।আজকের এই আর্টিকেলে বিদেশে স্কলারশিপ পাওয়ার যোগ্যতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।
পেজ সূচিপত্রঃ বিদেশে স্কলারশিপ পাওয়ার যোগ্যতা
-
বিদেশে স্কলারশিপ পাওয়ার যোগ্যতা
-
লক্ষ্য নির্ধারণ করা
-
একাডেমিক রেজাল্ট বা ফলাফল(GPA/CGPA)
-
ভাষাগত দক্ষতা(IELTS, TOFEL, MOI, DUOLINGO)
-
বিষয় বা কোর্স নির্বাচন করা
-
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রেডি করা
-
এক্সট্রা কারিকুলাম অ্যাক্টিভিটিস এর প্রয়োজনীয়তা
-
বিভিন্ন দেশের স্কলারশিপ সমূহ
- উপসংহার
বিদেশে স্কলারশিপ পাওয়ার যোগ্যতা
বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর অনেক শিক্ষার্থী দেশের বাইরে পড়াশোনার জন্য যায়।
বিদেশে স্কলারশিপ নিয়ে পড়াশোনা করা অনেক শিক্ষার্থীর স্বপ্ন। কিন্তু কিভাবে
বিদেশে একটি ভালো স্কলারশিপ পাওয়া যায় বা স্কলারশিপ পেতে কি কি যোগ্যতা লাগে
তা অনেকেই জানা নাই।
বিদেশে স্কলারশিপ পেতে বেশ কিছু ধাপ রয়েছে। সবাই বিদেশে স্কলারশিপ পায়না,
যারা পায় তারা অবশ্যই জানে একটি ভালো স্কলারশিপ পাওয়ার জন্য কি যোগ্যতা
প্রয়োজন। এর মধ্যে প্রথম ধাপ হলো দেশ নির্বাচন করা এবং ওই দেশে কি কি
স্কলারশিপ দেয় সে বিষয়গুলো সম্পর্কে জানা।
লক্ষ্য নির্ধারণ করা
অনেকেই বিদেশে পড়াশোনা করতে যায় বা আমাদের আশেপাশে অনেককেই দেখি বিদেশে
পড়াশোনা করতে যাচ্ছে, এসব ভেবে আপনিও যদি চিন্তা করেন যে আমিও বিদেশে পড়াশোনা
করতে যাব তাহলে হবে না। এটি আপনার জীবনের বা ক্যারিয়ারের একটি
গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত তাই এটি ভেবেচিন্তে নিতে হবে। আপনার বয়স,
শিক্ষাগত যোগ্যতা, অর্থ, পারিবারিক সহযোগিতা ও সমর্থন সবকিছু ভাবতে
হবে।
আরো পড়ুনঃ এইচএসসির পর বিদেশে উচ্চশিক্ষা
বিদেশে পড়াশোনা করার আগে আপনাকে সঠিক লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে। আপনি কোন দেশে
পড়াশোনা করতে যাবেন সে দেশ নির্বাচন করে, ওই দেশে কি কি স্কলারশিপ দেয় বা
আপনার যোগ্যতা অনুযায়ী কি কি স্কলারশিপ আছে সে বিষয়গুলো জানতে হবে। এটি একটি
অনেক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
দেশ নির্বাচন না করে বিদেশে পড়াশোনা জন্য সব কাগজপত্র বা ডকুমেন্টস রেডি
করে নিলে পরবর্তীতে আবার করতে হতে পারে এতে সময়, শ্রম, টাকা সব কিছুরই অপচয়
হয়। তাই পরিকল্পনা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়াই ভালো।
একাডেমিক রেজাল্ট বা ফলাফল(GPA/CGPA)
বিদেশে স্কলারশিপ পাওয়ার যোগ্যতার মধ্যে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর
হিসেবে কাজ করে। একটি ভালো স্কলারশিপ পাওয়ার জন্য একাডেমিক রেজাল্ট বা ফলাফল
একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আপনার একাডেমি যত ভালো হবে স্কলারশিপ
পাওয়ার যোগ্যতা তত বেড়ে যাবে।
বিভিন্ন দেশের ক্ষেত্রে স্কলারশিপ পাওয়ার জন্য একাডেমিক রেজাল্ট বা ফলাফল
বিভিন্ন হতে পারে
তবে সাধারণত GPA বা CGPA 3.5-4.0 মধ্যে হয়ে থাকে। ফুল ফান্ডেড
স্কলারশিপ বা ৭০% থেকে ৮০% স্কলারশিপ পাওয়ার জন্য GPA বা CGPA
4.0-5.00 থাকা ভালো।
ভাষাগত দক্ষতা(IELTS, TOFEL, MOI, DUOLINGO)
বিদেশের নিজস্ব দেশের ভাষায় পড়াশোনা করার কোন সুযোগ নেই। তাই অবশ্যই কে
ভাষাগত দিক থেকে দক্ষ হতে হবে। বিদেশে পড়াশোনার জন্য ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা
বেশি প্রয়োজন আর এর জন্য সব থেকে বেশি গ্রহণযোগ্য হলো
আইইএলটিএস(IELTS)। এছাড়াও TOFEL, MOI, DUOLINGO দিয়েও বিদেশে পড়াশোনা
করা যায়।
আরো পড়ুনঃ বাংলাদেশীদের জন্য চীনে স্কলারশিপ
একটি ভাল মানের স্কলারশিপ পাওয়ার জন্য আপনার আইইএলটিএস(IELTS) থাকা প্রয়োজন
6.5-7.0 এর মধ্যে। টোয়েফল (TOEFL) স্কোর থাকা প্রয়োজন 80-100 (IBT) তবে একটি
বিশ্ববিদ্যালয় ভেদে কম বা বেশি হতে পারে। MOI এবং DUOLINGO খুব কম জায়গায় গ্রহণ করা হয়।
বিষয় বা কোর্স নির্বাচন করা
আপনার একাডেমিক কোন বিষয়ের উপর পড়াশোনা করেছেন এবং বিদেশে কোন বিষয়ের উপর
পড়াশোনা করতে যেতে চাচ্ছেন সে বিষয় বা কোর্স নির্বাচন করা খুবই
গুরুত্বপূর্ণ। আপনার পছন্দ অনুযায়ী আপনি কোর্স নির্বাচন করবেন।
আপনি যে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতে চাচ্ছেন সেখানে আপনার পছন্দের বিষয় আছে
কিনা সেটিও ভালোভাবে রিসার্চ করে নিবেন এতে পরবর্তীতে আপনার পরিশ্রম কমিয়ে
দিবে। এবং ওই বিষয় বা কোর্সের ওপর স্কলারশিপ দেয় কিনা সেটিও দেখে নেওয়া
গুরুত্বপূর্ণ।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রেডি করা
বিদেশের উচ্চশিক্ষা বা স্কলারশিপ পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রেডি করা
একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নিম্নে যে ডকুমেন্টগুলো অতীব প্রয়োজন
সেগুলো সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করা হলোঃ
- একটি বৈধ পাসপোর্ট।
-
নিজের এবং বাবা-মায়ের এনআইডি(NID), রেডি রাখা এবং সেগুলোকে ইংরেজিতে
ট্রান্সলেট করা।
-
এসএসসি, এইচএসসি বা সর্বশেষ শিক্ষাগত সনদ সংগ্রহ করা এবং
মার্কশিট রেডি করে রাখা।
-
প্রয়োজন হলে শিক্ষাগত সনদের ইংরেজি ট্রান্সলেশন করে রাখতে হবে।
- একটি মানসম্মত SOP(statement of purpose) রেডি রাখতে হবে
- নিজস্ব কলেজ অথবা ইউনিভার্সিটি থেকে Letter Of Recommendation(LOR) সংগ্রহ করতে হবে।
- পাসপোর্ট সাইজের ছবি অথবা সফট কপি রেডি করে রাখতে হবে।
- প্রয়োজনে ব্যাংক স্টেটমেন্ট প্রস্তুত রাখতে হবে
- সবগুলো ডকুমেন্ট স্ক্যান কপি করে গুগল ড্রাইভ(Google Drive) অথবা নিরাপদ ফোল্ডারে রাখতে হবে
এক্সট্রা কারিকুলাম অ্যাক্টিভিটিস এর প্রয়োজনীয়তা
এক্সট্রা কারিকুলাম এক্টিভিটিজ বলতে বোঝায় পড়াশোনার বাইরে নিজের দক্ষতা, ব্যক্তিত্ব
অভিজ্ঞতা অর্জন করা। যেমন খেলাধুলায় অংশগ্রহণ, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বক্তব্য
দেওয়া, স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করা, নিজের পড়াশোনার কোর্স ব্যতীত অন্য কোন বিষয় সম্পর্কে
জানা ইত্যাদি।
আরো পড়ুনঃ স্টুডেন্ট ভিসায় কি কি কাগজপত্র লাগে।
বিভিন্ন দেশের স্কলারশিপ সমূহ
বর্তমানে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন
ধরনের স্কলারশিপ দিয়ে থাকে।এসব স্কলারশিপে টিউশন ফি খাওয়া দাওয়া প্লেন
ফেয়ার সবকিছু ওই দেশের সরকার বহন করে থাকে এরকমও সুবিধা পাওয়া যায়। এরকম
কিছু স্কলারশিপ সম্পর্কে নিম্নে দেওয়া হলোঃ
-
অস্ট্রেলিয়া অ্যাওয়ার্ড স্কলারশিপ (AWARD Scholarship)
-
কানাডা লেস্টার বি. পিয়ারসন স্কলারশিপ (Lester B. Pearson
Scholorship)
- জার্মানি ড্যাড স্কলারশিপ (DAAD Scholarship)
-
যুক্তরাজ্য কমনওয়েলথ স্কলারশিপ (Commonwealth Scholarship)
- জাপান মেক্সট স্কলারশিপ (MEXT Scholarship)
- সাউথ কোরিয়া গ্লোবাল কোরিয়া স্কলারশিপ (GKS)
- চীন চীনা সরকারি স্কলারশিপ(CSC) ইত্যাদি।
উপসংহার
সর্বশেষ কথা হল স্কলারশিপ পাওয়া অনেক কঠিন নয় যদি সঠিক পরিকল্পনা, যোগ্যতা
এবং দক্ষতার সাথে কাজ করা যায়। ভালো স্কলারশিপ পাওয়ার জন্য সময়মতো কাজ
করা, ভালো রেজাল্ট বা ফলাফল আয়ত্ত করা এবং নিষ্ঠা ও আত্মবিশ্বাসের সাথে
এগিয়ে যাওয়া।উপরের এই কাজগুলো সঠিকভাবে করলে জীবনে অবশ্যই সফলতা অর্জন
করা যাবে।



স্টারি হাব আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url